নেত্রকোণার হাওড়, আপনার জন্য নতুন পর্যটন স্থান

সারাবাংলা ডেস্ক :
Published:  2016-10-29 15:37:57

নেত্রকোণার হাওড়, আপনার জন্য নতুন পর্যটন স্থান

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে এর ভাটি অঞ্চল। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশকিছু নিচু ভূমি রয়েছে, যা বছরের ছয় থেকে সাত মাস জলমগ্ন থাকে। এ অঞ্চলকেই সাধারণত ভাটি বা হাওড় এলাকা বলা হয়।

এ অঞ্চল থেকেই গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গানের ধারা ভাটিয়ালির উত্পত্তি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এর বিস্তৃতি।

এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য বরাবরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে গড়ে তোলা সম্ভব পর্যটন এলাকা, যা দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাজুড়েই রয়েছে হাওড়। এর মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওড়, শনির হাওড়, হাকালুকি হাওড়, হাইল হাওড়, ডাকের হাওড়, মাকার হাওড়,

পাঙ্গাসিয়ার হাওড়, কাওয়াদীঘি হাওড় ও জোয়ানশাহী হাওড় অন্যতম। শীতের সময়ে এসব হাওড়ে ধানচাষ হলেও বছরের বাকি সময় পানিতে পূর্ণ থাকে। এ সময় সৃষ্টি হয় নয়নাভিরাম অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের।

এসব হাওড়ে বর্ষাকালে একমাত্র বাহন নৌকা। হাওড়ের গ্রামগুলো তখন একেকটি ছোট দ্বীপে পরিণত হয়। এ সময় এখানে আগত পর্যটকদের স্থানীয়রা ছোট নৌকা ও ট্রলারে করে ঘুরে দেখান হাওড়ের সৌন্দর্য।

তবে যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা তেমন না থাকায় এ এলাকা এখনো ঠিক পর্যটন উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তার পরও বর্ষার সময়ে এসব হাওড়ে পর্যটক সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এদের অনেকেই আসেন হাওড়ের নিম্নাঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি উপভোগ করতে।

চাইলে পর্যটকরা যেতে পারেন খালিয়াজুরীর পার্শ্ববর্তী উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জের হাওড়গুলোতেও; যেতে পারেন অপূর্ব ডিঙ্গাপোতা হাওড়েও। মোহনগঞ্জ থেকে রিকশায় বাবলিকোনা হয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে হাওড়ের বিভিন্ন গ্রামেও যেতে পারেন।

বর্ষা মৌসুমে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে লঞ্চে যেতে পারেন সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় হাওড় ট্যাকেরঘাটেও। ঘুরে আসতে পারেন গাগলাজোড়ের বিখ্যাত বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বাজার।

এ গাগলাজোড়ের জালালপুরেই আছে ভাটিয়ালি গানের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব উকিল মুন্সির বসতভিটা। চাইলে ঘুরে আসা যেতে পারে সেখান থেকেও।

সর্বোপরি গতানুগতিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এ হাওড়াঞ্চল হয়ে উঠতে পারে চমত্কার জায়গা। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ। এসবের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি গড়ে তোলা যেতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর