অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভঁরা লীলাভূমি পারকি সমুদ্র সৈকত

চট্টগ্রাম আনোয়ারা প্রতিনিধি, রেজাউল করিম সাজ্জাদ :
Published:  2016-09-03 04:48:31

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভঁরা লীলাভূমি পারকি সমুদ্র সৈকত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রাম। সাগর, নদী, পাহাড় এই তিনের সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ বেশ প্রশংসনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর ঘোষণা করেছেন।

আর সেই লক্ষ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয় দ্রুত গতিতে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের মহোৎসবে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। সেই সাথে পিছিয়ে নেই উপজেলা থানা কিংবা গ্রাম।

সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কর্মব্যস্ত এই জীবনে নগরবাসী সময় পেলে ছুটে যেতে চায় শহর থেকে কিছুটা

দূরে নির্জনে কিংবা নিরিবিল পরিবেশে পরিবার পরিজন নিয়ে। চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের কোণ ঘেঁষে অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত।

এখানে রয়েছে একটি বড় আকৃতির ঝাউ বাগান, উত্তাল সাগরের ঢেউ, রকমারী কাঁকড়া, গড়ে উঠা বিনোদন স্পট। আনোয়ারা থেকে ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সার কারখানা,

চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), কাফকো, দক্ষিণে সিইপিজেড অঞ্চলে নান্দনিক এ সমুদ্র সৈকতের অবস্থান।

চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত পারকীর জনপ্রিয়তা দেশ ও বিদেশে ছড়িয়ে পড়ায় ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকের আগমন দিন দিন বাড়ছে।

আনোয়ারার পারকি-সৈকতের ভৌগোলিক অবস্থান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনার অদূরে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে।

মনোরম পরিবেশে বিশাল এই সৈকতটি এখন পর্যটন শিল্পে বিরাট সম্ভাবনা জাগিয়েছে। তাই পারকিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘এক্সক্লুসিভ টুরিষ্ট জোন’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব একনেকে

অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারও পর্যটক পারকি সমুদ্র সৈকত ও ঝাউ বাগানোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসনে।

১৯৯৩-৯৪ সালে বন বিভাগ পারকি সমুদ্র সৈকত ৮০ একর জায়গা জুড়ে ঝাউগাছ লাগায়। আর্কিটেকচারাল পদ্ধতিতে লাগানো এই ঝাউ বাগান দর্শনার্থীদের দারুণ বিমোহিত

করে। বিশাল সমুদ্র সৈকত বহিনোঙরে সারি

সারি জাহাজ দেখে মনে হয় যেন সৈকত পাড়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ সৈকতের আর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাঁকড়া। কাঁকড়াগুলো এখানকার নান্দনিক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে মৎস্য প্রজেক্টগুলোতে বিরল প্রজাতির

মাছ। এ যেন এখানে আসা পর্যটকদের জন্য

বাড়তি পাওয়া। পারকি সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে বহু লোকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে এলে আর ফিরে যেতে মন চায় না। ভালো রেস্টুরেন্ট ও হোটেল কম থাকায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগে ফিরে যেতে হয়। ভালো

হোটেল-মোটেল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কম থাকায় এখানে আসা পর্যটকরা অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন। সরকারি

উদ্যোগে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হলে পর্যটকদের জন্য সব চেয়ে ভাল হয়।

পারকি সৈকতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে

সরকার কাজকরে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে পারকি

সৈকত একটি আন্তর্জাতিকমানের পরিচিতি লাভ করবে। তার জন্য সরকার সৈকতের যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের

সুবিধার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ, বর্ষা মৌসুমে যাতে পানি ঢুকতে না পারে তার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সৈকতের চেহারা পাল্টে যাবে। পারকি হয়ে উঠুক বিনোদনপ্রেমিদের

প্রিয় স্থান।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর