"অালোকবর্তিকার" উদ্যোগে লালমনিরহাটে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

শাহিনুর রহমান শাহিন
Published:  2018-06-17 16:53:33

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম থানাস্থ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতামূলক সেচ্ছাসেবী সংগঠন "অালোকবর্তিকার" অায়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (১৭ জুন ২০১৮) দেশের সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অায়োজনে বড়খাতা ডিগ্রি কলেজের হল রুমে" শিক্ষা সেবার দিশারী মোরা, অালোকবর্তিকার স্বপ্নচারী" নামক স্লোগানে এক অাড়ম্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম উপজেলাস্থ (২০১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষের ১০ জন চান্সপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অালোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে কম্পিউটার প্রকৌশলী ও অালোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ টি এম. ইফতেখার হোসেন মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেজবা-উল অাজম, বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল বারী, বড়খাতা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সুজন হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শায়ান আলো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুল আলম শাওনসহ এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইফতেখার হোসেন মাসুদ বলেন, " অাজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই হবে অাগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গৌরব করাই একজন শিক্ষার্থীর মূল কাজ নয়। বরং একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় তার দায়িত্ববোধ। দেশসেবার মহান দায়িত্বটুকুও তাকেই নিতে হয়। শুধু যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকেই দেশসেবার দায়িত্ব নিতে হবে তা নয় এখানে প্রাইভেট বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করে তাদেরও রয়েছে দেশের প্রতি অপরিহার্য দায়িত্ববোধ। দেশকে ইতিবাচক কিছু উপহার দেওয়াই একজন বিচক্ষণ শিক্ষার্থীর প্রধান গুরুদায়িত্ব হওয়া উচিত। 

এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত সাবেক, বর্তমান  শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা স্বারক পবিত্র কুরঅান শরীফের বাংলা অনুবাদ, উচ্চমানের বই সামগ্রী ও ক্রেস তুলে দেন। এছাড়াও একজন অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধীকে হাত গাড়ি উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেসবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি মূল উদ্দেশ্য ‍নিয়ে কাজ করে। এক, পুরনো জ্ঞানের উপর গবেষণা করে নতুন জ্ঞান উৎপাদন এবং দুই, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে সমাজের উপর ইতিবাচক প্রয়োগ করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর সব বিষয়ের উপর জ্ঞান রাখার পাশাপাশি জ্ঞানের একটি বিশেষ শাখায় দক্ষ হতে হবে। এই বিশেষ দক্ষতা ওই শিক্ষার্থীকে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করবে। যা তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।’

এসময় সদ্য বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী অাতিক হোসেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পৌছাবে এবং বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারি চাকুরীতে কিভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবে সে সম্পর্কে গাইডলাইন প্রদান করেন। 

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মমিনুর মমিনের সঞ্চালনায় "অালোকবর্তিকা সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে সংগঠনটির উদ্যোক্তাকর্মী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, অালোকবর্তিকা সংগঠন একটি সেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক সংগঠন।  

এই সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো-  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চ শিক্ষার  প্রতি উৎসাহ প্রদান ও শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করতে গাইডলাইন দেওয়া। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যাদি প্রদান ও ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন যেকোন ধরনের তথ্যসেবা এবং অাবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য করা। 

বছরে দুই ঈদে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত  শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি করা। 

পরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম রায়হান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অারিফুল ইসলাম,  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের মাইদুল ইসলাম মিঠুন, কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাজিয়া অাফরিন, অাতাউর রহমান, ইয়াছমিন অাক্তার, শরীফুল ইসলাম এবং অন্যান্য শিক্ষকসহ অভিভাবকবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম উপজেলাস্থ কয়েকজন শিক্ষার্থীর একান্ত অান্তরিক প্রচেষ্টায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ভর্তিচ্ছু  শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করার উদ্দেশ্য নিয়ে ‘আলোকবর্তিকা’ নামক সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর