প্রশ্নবিদ্ধ জাবির উপ-উপাচার্যের কর্মকান্ড

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Published:  2018-02-23 17:55:58

প্রশ্নবিদ্ধ জাবির উপ-উপাচার্যের কর্মকান্ড

মহান ভাষা শহীদদের স্বরণে ২১শে ফেব্রুয়ারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি না জানিয়ে দলীয় ব্যানারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন (শিক্ষা) ও অধ্যাপক আমির হোসেনের (প্রশাসন) কর্মকান্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বেদীতে প্রশাসনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সেখানে দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন (শিক্ষা) ও অধ্যাপক আমির হোসেন (প্রশাসন) উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা সেখানে উপস্থিত থেকেও রাষ্ট্রীয় ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা জানাননি। তারা দলীয় ব্যানারে হল প্রভোস্টগণকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। যা নিয়ম লঙ্ঘনজনীত অপরাধ। এরকম বির্তকিত কর্মকান্ডে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর রোষানলে পড়েছেন ওই দুই উপ-উপাচার্য।

এদিকে ২০ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে অন্য এক ঘটনা।  মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে বার্তা দিয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের উপাচার্যের সঙ্গে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিষেধ করে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র কার্যনির্বাহী কমিটি।

যে কমিটির সভাপতি হিসেবে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক অপর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন রয়েছেন। আর শিক্ষক সমাজের দলীয় নিষেধ থাকায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উপাচার্যের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানান নি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী, উপাচার্য প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় তার সঙ্গে উপ-উপাচার্য, অনুষদের ডিন, হল প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, বিভিন্ন অফিসের প্রধানদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। দায়িত্বে থাকা কেউ যদি উপাচার্যের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে অস্বীকার করেন তবে উপাচার্য তাকে শোকজ করার এখতিয়ার রাখেন।

এদিকে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই চলছে অালোচনা- সমালোচনা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের এরকম কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন ও বিচার বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে এরকম কর্মকান্ড সত্যি দুঃখজনক। প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে তারা রেষারেষি করলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি শিখবো।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানানো বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি কিন্তু তিনি (উপাচার্য) আমাকে দাওয়াত না দেওয়ায় আমি তার সাথে শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি। আর মুঠোফোনে বার্তার মাধ্যমে উপাচার্যের সঙ্গে ফুল দিতে নিষেধ করার বিষয়টা আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি-নীতি ভেঙে যদি কেউ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানায় সেটি খুবই দুঃখজনক । কিন্তু প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ব্যানারে ফুল দিতে নিষেধ করা নিয়ম লঙ্ঘনজনীত অপরাধ। উপ-উপাচার্য মিথ্যাচার করেছেন।  রেজিস্টারের মাধ্যমে প্রশাসনের সকলকে নোটিশ দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর