চরভদ্রাসন থানার দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

সারাবাংলা ডেস্ক :
Published:  2017-07-01 14:37:52

চরভদ্রাসন থানার দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে ফরিদপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছিল।

প্রত্যাহার হওয়া ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নেছারউদ্দিন। শনিবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা প্রত্যাহারের এ আদেশ দেন।

এর আগে চরভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চেয়ারম্যান আজাদ খান ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবিতে সভা করেন শনিবার দুপুরে। ওই সময়ে সরকার দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তারা আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা এমপি ডাঙ্গি গ্রামের মো. ওবায়দুর রহমানকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৯০ হাজার টাকা, বাছারডাঙ্গি গ্রামের রবিউলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং রানা প্রামাণিকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, লোহারটেক গ্রামের কুটি মোল্লার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, শিমু আক্তারের কাছ থেকে ১০ হাজার ও এমারত খানের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, স্বর্বান্দিয়া গ্রামের শফিকুলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, টিলারটর গ্রামের শাহজাহান খানের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, আব্দুল মজিদ খানের ডাঙ্গি গ্রামের রায়হান খানের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকাসহ এলাকার অনেক নিরীহ ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই সাইদুর রহমান বলেন, আমি কখনও এই ধরনের অন্যায় করি নাই। আমি এলাকায় যোগদানের পর থেকেই মাদকের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলাম। গত কয়েক মাসে এই থানায় মাদক উদ্ধার ও আটকের যত ঘটনা তার মধ্যে আমার অভিযান সব থেকে বেশী। এই নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা চক্রান্ত করছিল আমাকে নিয়ে। ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খানের এক ভাইকে সন্দেহজনক ভাবে তল্লাশি করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন আমার উপর। এই নিয়ে তার সাথে কথা-কাটাকাটিও হয়। এরপর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তি হীন সব অভিযোগ করে আসছেন।

‘পুলিশ সুপার ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো তদন্ত হচ্ছে, যদি দোষী হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরও খবর

লাইভ ক্রিকেট স্কোর