হাইকোর্টের আদেশও মানছে না রাজউক!

সারাবাংলা ডেস্ক:
Published:  2017-06-20 17:45:35

হাইকোর্টের আদেশও মানছে না রাজউক!

মো. শওকত জামান। একজন প্রবাসী বাঙালি। গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুরে। রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নিজের একটা প্লট হবে ভেবেই তিন কাঠা জমির জন্য ৭৫ হাজার টাকা জামানত দিয়েছিলেন। কিন্তু লটারিতে তার ভাগ্যে কোনো প্লট বরাদ্দ জোটেনি। সেই সাথে জামানতের জন্য দেয়া সেই ৭৫ হাজার টাকা প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ফেরত পাননি।

জামানতের এই সামান্য কিছু টাকার জন্য রাজউকে একাধিকবার ঘুরে কোনো লাভ না হওয়ায় কয়েকদফায় রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেন মো. শওকত জামান। এখানেও বিফল হন তিনি। সবশেষে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।

রিট আবেদনটি আমলে নিয়ে গত বছরের ১৪ আগস্ট রায় প্রদান করেন হাইকোর্ট। রায়ের দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে মো. শওকত জামানের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশ উপেক্ষা করেছে রাজউক। হাইকোর্ট রায় দেয়ার পর প্রায় ১ বছর হতে চললেও আজও পর্যন্ত বাদী তার জামানতের টাকা ফেরত পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখে একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আবাসিক প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে নির্ধারিত ফরম ক্রয় করে গত ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে তিন কাঠা প্লটের জন্য আবেদন জমা দেন মো. শওকত জামান। সেই সাথে প্রতি কাঠার বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেন। লটারিতে প্লট বরাদ্দ না পেয়ে জামানতের টাকা ফেরত পেতে নির্ধারিত সিটি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় যথাযথভাবে আবেদন জমাও দেন মো. শওকত। ব্যাংকে একের পর এক আবেদন, রাজউক কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে বারবার ঘোরা, কয়েকদফায় রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি প্রেরণ, এরপর সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশের পরও জামানতের সেই টাকা ফেরত পাননি তিনি।

জামানতের ওই কিছু টাকা ফেরত পেতে মো. শওকত জামানকে আর কি কি করতে হবে এবং আর কোথায় কোথায় আবেদন করলে তিনি টাকা ফেরত পাবেন- এ সব প্রশ্ন এখন তার।

১০ বছরেও নিজের টাকা ফেরত না পেয়ে কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মো. শওকত জামান।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর রাজউকের পেছনে ঘুরে ঘুরে নিজের জামানতের টাকা তুলতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে যাই। কিন্তু এখন দেখছি হাইকোর্টের রায়ের পর রাজউক কিছু করছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থাকি বলে আমার টাকা উঠানোর ক্ষমতা আমি লিখিতভাবে আমার শ্যালক মো. আরাফাত আলমকে দিই। আমার শ্যালক কয়েক দফায় রাজউকের কর্মকর্তাদের কাছে গেলেও তাদের একই বক্তব্য- যার টাকা তাকে এসে নিতে হবে। তার আগে আমাকে নাকি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এতো বছর তারা টাকা দেয়নি, আজ মামলা তুললেই তারা যে টাকা দেবে সে নিশ্চয়তা কি? আমার ন্যায্য টাকা আমি বুঝে পেলে অবশ্যই মামলা তুলে নেব।’

শওকত জামানের আইনজীবি মো. মাহমুদুল আলম দোহা বলেন, ‘রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে উচ্চ আদালত রাজউক কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর রাজউকের পক্ষ থেকে একটি শর্ত দেওয়া হয়। বলা হয়, মামলাটি তুলে নেওয়ার পর তারা অর্থ পরিশোধ করবে। সেক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা মামলা না তুলে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চাই। কিন্তু এতে তারা রাজি হয়নি। যা কিনা আদালত অবমাননার শামিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ঈদের পর উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে পুনরায় শুনানি করবো। এমনকি রাজউক কর্তৃপক্ষের আদালত অবমাননার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরবো।’

এ সব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় রাজউকের অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক ইলিয়াস মোল্লার সাঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মো. শওকত জামানের চেক রেডি আছে। তাকে এসে মামলা তুলে চেক নিয়ে যেতে বলেন। তিনি যদি না আসেন তাহলে কাকে আমরা চেক দেব। আর তিনি কেন এই টাকার জন্য হাইকোর্টে মামলা করলেন?’

তিনি আরো বলেন, ‘কেন তিনি মামলা করলেন, আর কেনইবা তিনি ১০ বছরেও টাকা ফেরতে পেলেন না এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনি আমাদের পরিচালক স্যারের সাথে কথা বলেন। এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

তার কথা মত যোগাযোগ করা হয় রাজউকের অর্থ ‍ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আবু কাওছার মল্লিকের সাঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলে যে মো. শওকত জামান তার টাকা তোলার ক্ষমতা তার শ্যালককে দিয়েছেন আর সেই কাগজ আমাদের কাছে জমা আছে এটা জানতাম না। তিনি তার টাকা তোলার ক্ষমতা যেহেতু লিখিতভাবে তার শ্যালককে দিয়েছেন, তাকে আসতে বলেন আমি চেক দিয়ে দিব। তিনি কখনও আমার কাছে আসেননি। অন্য কার কার কাছে গিয়েছেন সেটা আমি ঠিক জানি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি তিনি মামলা ‍তুলে নিক, আমি তার চেক দিয়ে দেব। তার চেক রেডি আছে।’

লাইভ ক্রিকেট স্কোর