আফসানের বিরুদ্ধে যে কারণে জেনারেল মাসুদের মামলা

সারাবাংলা ডেস্ক :
Published:  2017-06-08 09:53:51

আফসানের বিরুদ্ধে যে কারণে জেনারেল মাসুদের মামলা

 

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর কারণেই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আফসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আফসান চৌধুরী গত ৭ মে রাত ১০টা ১৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক ওয়ালে বনানীর ধর্ষণের ঘটনায় একটি স্ট্যাটাস আপডেট দেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- 'The identity of all the rapists dads please we already know about Apon jeweller’s owner’s son as one charged with rape. But who owns the Picasso restaurant whose owner’s son has been charged too. What is the name of the contractor whose son is the third alleged rapist?' 

তার ওই স্ট্যাটাসে অনেকেই কমেন্টস করেন। কমেন্টেসের এক পর্যায়ে আফসান চৌধুরী লিখেন- 'পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এই নাম বলতে গণমাধ্যমের সমস্যা কোথায়?'

এজাহারে জেনারেল মাসুদ অভিযোগ করেন, ১ নং আসামি (আফসান চৌধুরী) তার ফেসবুকে আমার নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে যা আমার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট লোক ও আমার পরিচিত দুই আইনজীবীর নজরে আসে। তারা আমাকে বিষয়টি জানান। প্রকৃতপক্ষে আমি পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক নই। আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতেই ১ নং আসামি দেশের আলোচিত ধর্ষণের ঘটনায় আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালায়। 

গুলশান থানায় গত ১৯ মে এ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও গত সোমবার (৫ জুন) তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার যা অভিযোগ তা আমি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছি। সুতরাং এখন এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। 

অন্যদিকে আফসান চৌধুরী বলেন, আমি কেন জেনারেল মাসুদের সম্মানহানী করতে চাইব, যেখানে তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় নেই। আমি স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। সবটা ক্লিয়ার হওয়ার পর আমি বিষয়টি নিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দেই। ব্যাপারটা তো তখনই মিটে গেছে, তাহলে এতদিন পর কেন মামলা করা হলো?

জেনারেল মাসুদের সঙ্গে কথা বলার পর আফসান চৌধুরী তার ফেসবুক ওয়ালে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন সেটিও তুলে ধরা হলো  পাঠকদের জন্য- 'More on the 'Picasso' affair and Viva Facebook… … … I got a call from Gen. Masud's friend this morning that his son was not involved. He also sent a post. I posted it on my timeline. This was apart from several clarifications already there. Several more arrived via inbox and i have responded to all. Gen. Masud's daughter wrote on my timeline and thanked for the clarification posted. Gen. Masud himself called and made a request. I said post me and I will act. Someone else called and I responded. I have listened to all. In my opinion, this is what social media is about and conventional media is not. Must walk together.' 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। তিনি সে সময় গঠন করা 'গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি'র প্রধান সমন্বয়কও ছিলেন। পরে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ছয় বছর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেশে ফিরে যৌথ বিনিয়োগে ঢাকার তেজগাঁও লিংক রোডে পিকাসো রোস্তোরাঁ খোলেন। 

জেনারেল মাসুদের দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলে আলবাব মাসুদ অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা করেন। আরেক মেয়ে তাসনুভা জেরিন কানাডার ওন্টারিওতে থাকেন। আর মাসুদ উদ্দিন তার স্ত্রী জেসমিন মাসুদ ও ছোট মেয়ে তাসনিয়া মাসুদকে নিয়ে রাজধানীর ডিওএইচএসের ফ্ল্যাটে থাকছেন।  

বনানীর ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয় মামলার তৃতীয় আসামি সাদমান সাকিফ পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিকের ছেলে। সেই সূত্র ধরেই তখন পিকাসো রেস্টুরেন্টের এডমিন ও এইচআরের দায়িত্বে থাকা ফুড এন্ড বেভারেজ ম্যানেজার সুমনের সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের। 

তিনি বলেন, একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সাদমান সাকিফ আমাদের পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। সাকিফ রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হোসাইন জনির ছেলে। 

সুমন আরো বলেন, গুলশান- তেজগাঁও লিংক রোডে অবস্থিত রহমান রেগনাম সেন্টারের লেভেল ১২-১৩ ও রুফটপ ভাড়া নিয়ে পিকাসো রেস্টুরেন্ট তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। রেগনাম গ্রুপের সঙ্গে পিকাসো রেস্টুরেন্টের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের মালিক মাসুদ উদ্দিন সাহেবের ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। 

লাইভ ক্রিকেট স্কোর