কোয়েল চাষে মাদারীপুরের সজলের ভাগ্য বদল

ইমদাদুল হক মিলন, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
Published:  2017-06-05 13:57:37

কোয়েল চাষে মাদারীপুরের সজলের ভাগ্য বদল

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছা, ধৈর্য্য আর চেষ্টা থাকলে অনেক ভাবেই আয় করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। পোল্ট্রির জগতে ক্ষুদ্র পাখি কোয়েল। আগে বনে-বাজারে ঘুরে বেড়ালেও বর্তমানে খামারে বাণিজ্যিকভাবে এখন চাষ হচ্ছে কোয়েল পাখির।

আমাদের দেশের আবহাওয়া কোয়েল চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত। কোয়েল পাখির খামার করে এমন এক দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন মাদারীপুরের সজল নামের এক যুবক। কোয়েল পাখির খামার দিয়ে ডিম ও পাখি বিক্রি করে তিনি এলাকার বেকারদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। নিজেও হয়েছে স্বাবলম্বী। শুধু তাই নয় পাশাপাশি পালন করছেন সোনালী জাতের মুরগী।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের শ্রীনাথদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে শ্রাবণ হাসান সজল। সজলের বাড়ির আঙ্গিনায় পা রাখতেই দেখা গেল তার হাতে গড়া কোয়েল পাখির একটি খামার। বাড়ির পাশে নিজেদের প্রায় দুই শতাংশ জমিতে প্রশস্ত একটি ঘর তৈরি করে তার চারপাশে নেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কোয়েল পাখির খামার। খামারের পাশেই তার বসত ঘরে বসে কোয়েল চাষের নানা বিষয়ে কথা হলো সজলের সাথে। তার কাছে জানা গেলো, সজল একজন ছাত্র। সে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টর অফ ভেটেনারী মেডিসিন (প্রাণী চিকিৎসা) ডিগ্রিতে ৩য় বর্ষে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শুরুতে নিজের হাত খরচ ম্যানেজ করার জন্য কিছু একটা কাজ খুজছিল, যাতে করে আর্থিক কর্মসংস্থান করা যায়। হঠাৎ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোয়েল পাখি পালন সম্পর্কে জানতে পারে সে এবং তখন বিক্রয় ডটকম থেকে একজন কোয়েল পাখির খামারির নাম্বার সংগ্রহ করে তাহার কাছ থেকে ২০০ পিস ১মাস বয়সী পাখি কিনে নিয়ে এসে শুরু করেন কোয়েল পাখির খামার।

পাখিগুলো যখন ১মাস পর থেকে ডিম দিতে শুরু করল তখন থেকেই ভাবতে লাগল সজল এটা আসলেই একটি লাভ জনক হবে। অবশ্য সেই সময়ে তাহার পিতা সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের কাছ থেকে অনেক আর্থিক সার্পোট ও সজলের মা জামিলা বেগমের সহযোগীতায় যশোর থেকে আরো এক হাজার পিছ ১মাস বয়সী কোয়েল পাখি কিনে খামারের পরিধি বৃদ্ধি করে। ১টি স্ত্রী কোয়েল ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ১৮ মাস পর্যন্ত ডিম দেয়।

সজল আরো জানায় বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ২৫০০ শত কোয়েল পাখি। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছে গড়ে আট শত ডিম। খামারে প্রতিদিন তিনি ডিম বিক্রি করে ১৬০০ টাকা আয় করেন। প্রতি মাসে তাদের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করে। এভাবে বেকার সজল কোয়েল পাখি খামার দিয়ে বেকারত্বকে পরাজিত করে অল্প বয়সেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কোয়েল পাখি খামার করে সজলের স্বাবলম্বী হওয়া প্রসঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সজল তার নিরলশ প্রচেষ্টার কারণে তার বেকারত্বকে বলি দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে সজলের এই সাফল্যকে আমি উৎসাহ প্রদান করি। প্রয়োজনে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই তাকে তা দেয়া হবে। কোয়েল পাখি পালনে বেশ সুবিধা রয়েছে। কোয়েল দ্রুত বর্ধণশীল, মাত্র ৬-৭ সপ্তাহে ডিম পাড়া শুরু করে।

ডিমে কোলেস্টেরল কম, প্রোটিনের ভাগ বেশী। মাত্র ১৭/১৮ দিনে কোয়েলের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। হাসমুরগীর চেয়ে কোয়েলের রোগ বালাই নেই বললে চলে। এ কারণে কোয়েল পাখির খামার করতে অনেকেই আগ্রহী। দেশের বিভিন্নস্থানে যেভাবে কোয়েল পাখির খামার হচ্ছে তাতে অতি শীঘ্রই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে একটি বিরাট পরিবর্তন আনবে বলে এই কর্মকর্তার অভিমত।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর