ইন্টারভিউতে যে ৭টি বিষয় কখনোই বলা উচিত নয়!

সারাবাংলা স্টাফ রিপোর্টার:
Published:  2016-12-14 08:02:29

ইন্টারভিউতে যে ৭টি বিষয় কখনোই বলা উচিত নয়!

ইন্টাভিউয়ের সময় আপনার প্রথম লক্ষ্য হায়ারিং ম্যানেজারকে আশ্বস্ত করা যে, আপনিই এই পজিশনের জন্য যোগ্য প্রার্থী। এ কারণে আপনার ইন্টারভিউ প্রস্তুতি ব্যাপক হওয়া উচিত, আগে থেকেই অনুশীলন করে নিবেন কি কি বলবেন।

কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য থাকা উচিত হায়ারিং ম্যানেজারকে সন্তুষ্ট করা এবং নিজেকে প্রমাণ করা, যদি দুর্ঘটনাবশত ভুল কিছু বলে ফেলেন তাহলে হয়তো আপনার চাকরি পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া হতে পারে।

নিচে আমাদের ইন্টারভিউ টিপসগুলো দেখুন এবং জেনে নিন আপনার প্রস্তুতির জন্য এগুলো প্রয়োজন কিনা, না থাকলে এগুলো আপনার শব্দ ভান্ডার থেকে মুছে ফেলুন।

১. আপনার পূববর্তী ম্যানেজার/কোম্পানীর সম্মন্ধে নেগেটিভ কিছু না বলা;

যদিও আপনার পূববর্তী চাকরি “ইভিল ইনকর্পোরেটেড” ছিল, তবুও আপনার পূববর্তী ম্যানেজার/কোম্পানী সম্পর্কে খারাপ কিছু বলবেন না। কোন ব্যাপার না কতটা অযোগ্য ব্যবস্থাপনা ছিল বা কোম্পানীর নীতিমালা কতটা খারাপ ছিল,

সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার বলার ধরণ সব সময় পজেটিভ এবং নিরপেক্ষ রাখতে। আপনার পূর্বের কমস্থল সম্পর্কে নেগেটিভ কিছু না বলে, চেষ্টা করুন আপনি সেখান থেকে কি শিখেছেন অথবা আপনি কি অর্জন করতে চেয়েছিলেন।

২. আমার জন্য এখানে কি কি সুযোগ সুবিধা থাকবে?

প্রশ্নগুলো এরকম: বেতন কত? কি কি সুযোগ সুবিধা? আপনারা কি সকালের নাস্তা দিবেন? অসুস্থতার জন্য কতদিন ছুটি নিতে পারবো? ইত্যাদি…….সকল ইন্টারভিউতে একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে যখন আপনি বেতন ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কিন্তু একটা সফল ইন্টারভিউতে প্রথম দিনে এই কথাগুলো বলবেন না। এটা আমাদের উপদেশ, যে সফল ইন্টারভিউ এর জন্য প্রথমেই এ কথাগুলো জানতে চাইবেন না। আমরা পূর্বে যেটা বলেছি “ইন্টারভিউতে”উপস্থিত হওয়া আর “গার্লফ্রেন্ড এর সাথে ডেটিং” করা এক বিষয় নয়। এক্ষেত্রে খুব বেশি শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি এ সম্পর্কে কি আশা করছেন।

৩. নেগেটিভ গল্প:

মনে করুন আপনি একজন প্রফেশনাল মানুষ, আপনি “Charles Bukowski” না, তার মানে আপনার দুঃখ-দুর্দশা, নেতিবাচক এবং হতাশাগ্রস্থ গল্প বলতে হবে না। যদি আপনি অনুভব করেন আপনাকে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতেই হবে তারপরও ইন্টারভিউতে না।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর ও প্রতিউত্তর ইতিবাচক ভঙ্গিতে দিতে হবে। যদি আপনি ক্রমাগত আপনার বস ও কাজ সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলতে থাকেন তাহলে এটি দেখায় যে আপনি যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসী নন। ইতিবাচক থাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন বা নিরপেক্ষ থাকুন।

৪. অতিরিক্ত অত্নবিশ্বাসই, বড় দুর্বলতা:

“আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আমি ‘পারফেক্টসনিষ্ট’”আপনি কি শুনতে পেয়েছেন। এই শব্দটির জন্য আপনার হায়ারিং ম্যানেজারের দৃষ্টি অন্য কোন প্রার্থীর দিকে চলে যেতে পারে। যদি আপনি মনে করেন তারা এ কথা আগে কখনও শুনেনি তাহলে, নিজেকে আরো যাচা্ই করুন। এর উত্তর সঠিকভাবে দেয়াটাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তাহলে, যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনার দুবলতা কি? চেষ্টা করুন এমন কোন উত্তর দিতে যাতে হায়ারিং ম্যানেজারের দৃষ্টি আপনার উপর থাকে। নিজেকে ‘পারফেক্টসনিষ্ট’ দাবি করা অথবা অনেক বেশি কেয়ারিং বলা তার মানে এ না যে, আপনার হায়ারিং ম্যানেজার আপনার উপর সন্তুষ্ট বরং হিতের বিপরীত হতে পারে।

৫. গুনগুন করা:

ভাইরাল মার্কেটিং, বুদ্ধি হ্যাকিং আপনি কি এই ইধামা ধরা গুলো কল্পনা করতে পারেন যে শব্দগুলো আপনি আগেও পরেছেন? চিন্তা করুন নিয়োগদাতা কি মনে করবে এই শব্দগুলো বার বার শুনে। ইন্টারভিউ এর একটি কৌশল আছে, আপনি জড়িয়ে কথা বলা আপনার স্মাটনেস প্রকাশ করে না। এমনকি এটি একটি বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া

এমনকি এটি একটি বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যাতে মনে হবে, আপনি কি বলছেন তা আপনি নিজেই জানেন না। বরং এই শব্দগুলো আপনার শব্দভান্ডার থেকে বাদ দিয়ে, সহজ ও সাবলীল ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।

আপনি যদি সাধারণ ভাষায় আপনার অভিজ্ঞতাসমূহ উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে, তার অর্থ দাড়ায় আপনি কিছুই বুঝতে পারেননি।

৬. পরিপূরক শব্দের ব্যবহার

যদি আপনি একটি চলন্ত ট্রেনের মত চলতে চান তাহলে এই শব্দগুলো ব্যবহার করবেন না যেমন: হুমমম..আআ... লাইক, ঠিক আছে, বুঝেছেন ইত্যাদি। এই শব্দগুলো এটিই প্রমান করে যে, আপনি যথেষ্ট কনফিডেন্স না এবং আপনি খুব বেশি কিছু জানেন না, যা আপনার appearance কে নষ্ট করতে পারে।

একটি ভালো ইন্টারভিউ আপনাকে নিচু করে দিতে পারে যদি আপনি হুম, আ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। এটি আপনাকে শুধুমাত্র ইন্টারভিউ স্কিল ভালো করতেই সাহায্য করবে না। এটি আপনা সাধারন কথাবার্তার ধরনও বদলে দিবে।

৭. অসংগতি বা অসংলগ্নতা:

একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে থাকুন, আপনি যাই করেন, এমন কোন আচরণ করবেন না যা পরে আপনার নিজেরই আয়ত্তে না থাকে। সকলেই গল্প পছন্দ করে এবং আপনাকে মনে রাখার জন্য গল্প বলা একটি ভালো উপায়, কিন্তু আপনার আয়ত্তের বাহিরে কিছু করবেন না। আপনার গল্পটি সংক্ষিপ্ত, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্মরণীয় মজার করে বলুন।

উপরোক্ত বিষয়সমূহ ছাড়াও আরো কিছু বিষয় আছে যা কখনোই ইন্টারভিউ এর মাঝে বলা উচিত নয় কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল হবে কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া ইন্টারভিউ এ যাওয়া। নিশ্চিত করুন যে, আপনি সকল প্রকার সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়েই ইন্টারভিউ এ যাচ্ছেন। যদি আপনি এখনও চাকরি খুঁজছেন তাহলে Everjobs এর নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো দেখুন।

লাইভ ক্রিকেট স্কোর