মিটার না দেখেই বিল তৈরি করছে জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ

সোয়েব উদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :
Published:  2016-11-14 02:39:15

মিটার না দেখেই বিল তৈরি করছে জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) জৈন্তাপুর বিতরণ বিভাগে ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল নিয়েই গ্রাহকদের সব অভিযোগ। প্রতি মাসেই ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অতিরিক্ত এই বিলের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিঃশ্ব হয়ে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

প্রায় প্রতিদিনই জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন গ্রাহকরা। এতে করে একদিকে বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তারা যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি গ্রাহকদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এতো অভিযোগ দেয়ার পরও বাড়েনি বিতরণ বিভাগের জনবল। এর মধ্যে লাইনম্যান আর মিটার রিডারের পদেই বেশি সঙ্কট। বর্তমানে জৈন্তাপুরে প্রায় ১০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের জন্য রয়েছে  ৬ জন মিটার রিডার। প্রতি ১২শ গ্রাহকের জন্য একজন করে মিটার রিডার থাকার কথা থাকলেও প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে ৬ জন মিটার রিডার দায়িত্ব পালন করছেন।

আর তাই পর্যাপ্ত মিটার রিডার না থাকায় মিটারের রিডিংই কাউন্ট করা হচ্ছে না। এর ফলে প্রতি মাসেই আন্দাজে গ্রাহকদের হাতে ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিরও শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।

জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক আব্বাস উদ্দিন. সমসুল হক,শামীম আহমদ সহ বেশ কয়েক জন সারাবাংলা নিউজকে জানান, গত কয়েক মাস ধরেই বিদ্যুৎ অফিস থেকে ব্যবহৃত মিটার রিডিংয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ইউনিটের বিল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘ভুতুড়ে’ এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

গত মাসে তার মিটার রিডিং ছিল ২৫০ ইউনিট কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাকে বিল দেয়া হয়েছে ৪৭০ ইউনিটের।অতিরিক্ত ২২০ ইউনিটের বিল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বার বার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

হরিপুর এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক শোয়েব উদ্দিন সারাবাংলা নিউজকে জানান, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ অফিস থেকে সরবরাহকৃত বিলের কাগজের সঙ্গে মিটারের রিডিংয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়না। এর ফলে প্রতিমাসেই ব্যবহারের চেয়ে বেশি ইউনিটের বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করতে হচ্ছে তাকে।

আব্বাস উদ্দিন, সামসুল হক,শামীম, শোয়েব এর মতো এমন অসংখ্য গ্রাহককেই প্রতিমাসে ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বার বার ধর্ণা দিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় অনেক গ্রাহকই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবেন বলে মনস্থির করে ফেলেছেন।

গ্রাহকদের এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন সারাবাংলা নিউজকে বলেছিলেন আগামী মাসে বিদ্যুৎ বিল সঠিক করে দেবেন বলে আসস্ত করেন কিন্তু এই মাসে গ্রাহকদের উপর কিপ্ত হয়ে আরো বেশি করে বিদ্যুৎ বিল দরিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে সাব ইন্সপেক্টর ইন্জিনিয়ার জাহাংগীর আলমের সাথে কথা বলে যানা যায় এবং তিনি শিকার করেন গত মাসে অভিযোগ কারি গ্রাহকদের অভিযোগ সত্য তিনি আরো বলেন তাদের জনবল না থাকায় অনুমান বিল দেয়া হচ্ছে। যাদের মিটারের রিডিং অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে আগামী মাসে তাদেরকে জিরো ইউনিটের বিল দেয়া হবে কিন্তু তা না করে বর্তমান মাসেও অতিরিক্ত হারে বিল দেয়া হচ্ছে। 

লাইভ ক্রিকেট স্কোর